শুভ্র ভেবে পায় না কী করবে। আর মাত্র তিন দিন বাকি। সেদিন মামা
এসেছিল। তাকে বলেও বলতে পারেনি। তারপরও বলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মামা বলল-
ভাগ্নে আজ আর কিছু শুনব না। তোমার যা যা লাগবে সবই পাবে।
মামা বলতে থাকলো, তোমার
জন্য সারপ্রাইজ আছে। শোন এবার যেখানে যেতে চাইবে সেখানেই নিয়ে যাব। চিড়িয়াখানা,
শিশুপার্ক, জাদুঘর বা নন্দন পার্ক, যেখানে খুশি সেখানে।
এত কথা শুনতে শুনতে
শুভ্র আর কিছুই বলতে পারল না। বাবাকে যে বলবে সে সাহস তার নেই। মাকে বললেও মা
অজুহাত দেখাবে। আপুর সঙ্গে তো কথা বলাই যায় না। সে এখন মহাব্যস্ত।
শুভ্র মনে মনে ভাবতে
লাগলো- ওকে আমি খুব পছন্দ করি। ও আমার বন্ধু। ওকে কথা দিয়েছি। কালই একটা উপায়
খুঁজে বের করতে হবে। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ হচ্ছে শুভ্র। ঘুম হচ্ছে না।
ঘুমানোর চেষ্টা করে
একসময় ঘুমিয়ে পড়লশুভ্র। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখল ওর বন্ধুটির মা মরে গেছে। স্বপ্ন
দেখে তো শুভ্রের আর ঘুম আসল না। এভাবেই সকাল হল। শুভ্র বাসা থেকে বের হবে এমন সময়
মা বলল- কিরে খোকা! কোথায় যাচ্ছিস। শুভ্র নিশ্চুপ। কিছুই বলল না। স্বপ্নটা মনে
উঠতেই মাকে জড়িয়ে ধরল।
মা বলল, কিরে কী হয়েছে!
শুভ্র কিছুই না বলে মায়ের গালে একটা চুমু খেয়ে বেরিয়ে পড়ল।
শুভ্র ওর বন্ধুর কাছে
গেল। বন্ধুর নাম তমাল। তমাল হোটেলে কাজ করে। আগে শুভ্রের স্কুলের সামনে বাদাম
বিক্রি করত। তখন থেকেই শুভ্রের সঙ্গে ওর পরিচয়। শুভ্র বাদাম না খেলেও ওর কাছ থেকে
বাদাম কিনত। তমালকে ওর ভালো লাগে। তমালের চেহারা খুবই মায়াবী। তবে সারাদিনের
পরিশ্রমে ওকে অনেক রোগা রোগা লাগে।
একদিন শুভ্রের স্কুল
আগেই ছুটি হয়ে গেল। শুভ্র ভাবল আজ তমালের জীবন কাহিনী শুনবে। ও কেন বাদাম বিক্রি
করে? ওর কী লেখাপড়া করতে ইচ্ছে হয় না? অবশ্য বাদাম বিক্রি করে এমন আরও অনেক ছেলেই
আছে। কিন্তু কেন যেন ওর তমালকে খুব ভালো লাগে। শুভ্র বাসায় গেল না।
তমাল স্কুলের গেটে বসে
বাদাম বিক্রি করছে। শুভ্র বলল-তমাল, আজ আমি তোমার সঙ্গে গল্প করব। তোমার কথা শুনব।
যদিও তোমার একটু ক্ষতি হবে। তবে একটা কাজ করতে পারি, আমার কাছে কিছু টাকা আছে
সেগুলো তোমাকে দেব। তুমি আরও বেশি বাদাম কিনে বিক্রি করবে।
তমাল বলল, তা লাগবে না।
তয় আপনার বাসায় যাইতে দেরি হলে বকা দিবো না! শুভ্র বলল- না, আজ আমার আগেই ছুটি
হয়েছে। আমি ঠিক সময়ে বাসায় চলে যাব। শুভ্র বলল- জানো তমা, তোমার সঙ্গে কথা বলতে
আমার খুব ভালো লাগে। আমারও খুব ভালো লাগে, তমাল বলল।
শুভ্র ক্লাস সেভেনে
পড়ে। লেখাপড়ায় অনেক ভালো। ক্লাসে সব সময় প্রথম হয়। বই পড়তে অনেক ভালোবাসে। অবসর
সময় পেলেই বই পড়ে। গোয়েন্দা কাহিনী, সায়েন্স ওয়ার্ল্ড, এনসাইক্লোপিডিয়া, জীবনী এসব
পড়তে তার খুব ভালো লাগে। শুভ্র বড় হয়ে একজন প্রকৌশলী হতে চায়। তবে সেই সঙ্গে
মানুষের সেবায়ও নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়। চেষ্টাও করে আপ্রাণ।
তমাল শুভ্রের এক বছরের
ছোট হবে। শুভ্র তমালকে বলল- শোন তমাল, আজ থেকে আমরা বন্ধু। তোমার সব কিছু আমাকে
বলো। তুমি আমাকে ‘তুমি’ করে বলবে। তমাল বলল- আচ্ছা। তমাল তার জীবন কাহিনী শুরু
করল।
তমালের বাবা দুই বছর
আগে মারা গেছে। তখন ও পড়ালেখা করত। নন্দীপুর গ্রামে ওদের বাড়ি। সেখানেই থাকত ওরা।
বাবা মারা যাওয়ার পর মা আমাকে ও আমার ছোট বোন তিতলীকে নিয়ে ঢাকায় আসে। এসে মিরপুর
বস্তিতে ওঠে।
মা ইট ভাঙ্গার কাজ শুরু
করে আর একটা বাসায়ও কাজ নেয়। একদিন মাও খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাকে হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়। অপারেশন করতে হবে। প্রথম মালিক কিছু টাকা দিলেও এখন আর দেয় না। মায়ের ওষুধ
ও চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগবে। ছোট বোনটা স্কুলে যেতে চায়।
প্রতিদিন বায়না ধরে
ব্যাগ এনে দাও। খাতা, কলম এনে দাও। আমি স্কুলে যাব। আমারও ইস্কুলে পড়ার ইচ্ছা
আছিল। কিন্তু কী করব, এখন ভাবছি বোনটারে স্কুলে পড়ামু। তয় এই টাকায় হয় না। আমার
একটা চাকরি হইলে ভালো হইত।
এ কথা বলে নিজেই হেসে
ফেলে তমাল বলে, আমার চাকরি দেবে কে? আমি তো শিক্ষিত না। বয়সটাও তেমন না যে চাকরি
করবো। একথাগুলো বলে তমাল চুপ হয়ে গেল। শুভ্র ওর হাতটা তমালের হাতে রেখে বলল- শোন
দোস্ত, আমরা আজ থেকে পাক্কা দোস্ত। শুধু দোস্ত না দুই ভাই। আমি যতটুকু পারি তোকে
সাহায্য করব। কিন্তু তুই কিছুতেই না করবি না। এই নে, এ টাকাটা রাখ। এই বলে শুভ্র
বাসায় চলে গেল।
শুভ্র বাসায় এসে একটু
চিন্তিত। কী করা যায়! কাউকে কিছু বলাও যাচ্ছে না। তমালের সঙ্গে আরও আগে পরিচয় হলে
ভালো হত। তাহলে হয়ত টিফিনের টাকা ও ভাড়া বাচিয়ে কিছু একটা করা যেত।
তমালের মা অনেকদিন থেকে
হাসপাতালে। এই সপ্তাহে অপারেশন। আরও ৫ হাজার টাকা লাগবে।
শুভ্র আর কিছু না ভেবে
তার মামার উপহার দেওয়া গেমস খেলার ট্যাবটা নিয়ে গেলো মোবাইলের দোকানে। দিলো বেচে।
সে টাকা নিয়ে সে দৌড়ে গেলো হাসপাতালে, তমালের কাছে।
শুভ্র ভিজে ভিজে বাসায়
আসল। এসেই শুনতে পেল মা বুয়াকে বকাবকি করছে। শুভ্র বেহুশ হয়ে পড়ল। ওর গায়ে তুমুল
জ্বর। শুধু ঘুমের ঘোরে বলছে, ‘মা, তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো। মা, আমি তোমার ...’।
দুইদিন পর কিছুটা সুস্থ
হলো শুভ্র। ঠিক তখন তমালের ফোন, হ্যালো শুভ্র! মা সুস্থ হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছে
অপারেশন ভালো হয়েছে।
শুভ্র দৌড়ে গিয়ে তার মাকে জড়িয়ে ধরলো। বলল- মা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,
খুব ভালোবাসি।
বাসার সবাই ব্যাপারটা
শুনল। তমালের মা সুস্থ হয়েছে শুনে শুভ্র যে কত খুশি তা বলে বোঝানো যাবে না। মায়ের
কাছে ক্ষমা চেয়ে শুভ্র বলল- আর মিথ্যা বলবো না মা। তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
নাভিদ সাহেব শক্ত বাবা। প্রতিবেশী মারফত জানতে পারলেন, তাঁর এসএসসি পরীক্ষার্থী কন্যা প্রেম করছে। শক্ত বাবা হলে কী হবে, প্রথমে তিনি তা বিশ্বাসই করলেন না। মেয়ের ওপর তাঁর ভরসা আছে। মেয়ে তাঁর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রেম করতেই পারে না।
কিন্তু প্রতিবেশীরা যেমন হয়, নাভিদ সাহেবের পেছনে লেগেই থাকল। বলতে থাকল, মেয়ে তো গোল্লায় যাচ্ছে, প্রেম করে উচ্ছন্নে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
নাভিদ সাহেব দাঁতে দাঁত চাপলেন। বললেন, ‘কেউ যদি প্রমাণ দেখাতে পারো, তাহলে বিশ্বাস করব!’
প্রতিবেশীরা পড়ল ফাঁপরে। আগের যুগের প্রেম হলে চিঠি-টিঠি থাকত। সেগুলো কোনোমতে হাতে এলেই কেল্লা ফতে করা যেত। কিন্তু যুগ তো এখন ইন্টারনেটের। প্রেম হয় ফেসবুকে। এখন প্রেম প্রতিষ্ঠা করাই মুশকিল, প্রমাণ তো আরও দূরের কথা!
নাভিদ সাহেব তাঁর মাথা নাড়িয়ে হাসলেন। তিনি জানতেন, এসব বাজে কথা! অনেকটা যেন মিডিয়ার সৃষ্টি। কিন্তু মিডিয়া হোক বা প্রতিবেশী, কোনো একটা কিছুর পেছনে এরা লাগলে হয়, সেটার হালুয়া টাইট করে ছাড়ে। প্রতিবেশীরা কীভাবে কীভাবে যেন নাভিদ সাহেবের এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের ফেসবুক হ্যাক করে ফেলল। ইনবক্সে বিস্তর প্রেমালাপ! নাভিদ সাহেবের সামনে সেগুলোর স্ক্রিনশট পেশ করা হলো। নাভিদ সাহেব তিন দিন কথা বলতে পারলেন না। চতুর্থ দিন তিনি শুধু উচ্চারণ করলেন, ‘বন্ধ!’
কী বন্ধ, কেন বন্ধ—কেউ এই প্রশ্নের উত্তর উদ্ধার করতে পারল না। নাভিদ সাহেব শুধু কিছুক্ষণ পরপর বলে যান, ‘বন্ধ!’
অচিরেই অবশ্য বোঝা গেল নাভিদ সাহেবের কথার মানে। তিনি তাঁর মেয়ের ফেসবুক বন্ধ করে দিতে চান। কারণ, ফেসবুকের জন্যই এসব হচ্ছে। কথা হচ্ছে, মনের ভাব-ভালোবাসা আদান-প্রদান হচ্ছে। নাভিদ সাহেব জাকারবার্গকে চিঠি লিখলেন—
প্রিয় জাকার,
আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের পরীক্ষা তোমার ফেসবুকের জন্য হুমকির মুখে। পত্রপাঠমাত্র তুমি তার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেবে। ফেসবুকে আমার মেয়ের নাম ‘অ্যাঞ্জেল নিলু’।
ইতি
নাভিদ চৌধুরী
ঢাকা, বাংলাদেশ
জাকারবার্গ সজ্জন মানুষ, তার ওপর চীনের জামাই। ফলে নাভিদ সাহেবকে এশিয়ান শ্বশুর জ্ঞান করে ‘অ্যাঞ্জেল নিলু’ অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিলেন। সেদিন বাংলাদেশে হঠাৎ করেই ১ লাখ ৭৮৪টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেল।
নাভিদ সাহেব হাসলেন। প্রযুক্তিকে কীভাবে তিনি নিজের মতো করে ব্যবহার করেছেন, এ বিষয়ে কড়া বক্তব্য রাখলেন প্রতিবেশীদের সামনে।
মেয়ের পরীক্ষা চলতে থাকল। প্রতিদিনই গুজব উঠল, মেয়ে নাকি লুকিয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করছে। নাভিদ সাহেব হাসলেন। শত্রুর মুখে ছাই দিয়েছেন তিনি, তারা তো এখন নানান গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করবেই। নাভিদ সাহেব আত্মপ্রসাদে নাক ডেকে ঘুমালেন।
সেই ঘুম ভাঙল শেষ পরীক্ষার দিন। সেদিন মেয়ে তার প্রেমিককে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে! খবর শুনে নাভিদ সাহেব থম মেরে কিছুক্ষণ বসে থাকলেন। তারপর মাথা নাড়িয়ে ভাবলেন, শুধু ফেসবুক বন্ধ করা ভুল ছিল, শহরের সব কাজি অফিসও বন্ধ করে দিলে আজ এই বেইজ্জতিটা হতে হতো না!
বি.দ্র.: জীবিত বা মৃত, বিবাহিত বা অবিবাহিত কারও সঙ্গে এই গল্পের কোনো চরিত্রের কোনো রকম মিল খুঁজে পেলে তা নিতান্তই সত্যি। আপনার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়!
একবার এক গণ্যমান্য শহুরে ইঁদুর এল এক সাধারণ মেঠো ইঁদুরের কাছে। মেঠো ইঁদুর বাস করত এক মাঠে। সে তার অতিথিকে খেতে দিল যা তার ছিল-- মটর ও গমের দানা।
গণ্যমান্য ইঁদুর একটু খুঁটে খেয়ে বলল, “তোমার খাবার এতই অপুষ্টিকর বলেই তুমি এমন রোগা। এসো, আমার কাছে, দেখো কীভাবে আমরা থাকি।”
তখন মেঠো ইঁদুর চলল শহুরে ইঁদুরের কাছে। রাতের জন্য তারা মেঝের নিচে অপেক্ষা করল। লোকেরা এসে খেয়ে চলে গেল। তখন শহুরে ইঁদুর তার অতিথিকে খাবার ঘরে নিয়ে চলল এক গর্ত দিয়ে। তারা দুজনেই চড়ে বসল টেবিলের উপর। সাধারণ মেঠো ইঁদুর জীবনে কখনও এমন ভালো খাবার চোখেও দেখেনি।
সে বলল, “তুমি ঠিক বলেছ, আমাদের জীবন খুবই খারাপ। আমিও শহরে বাস করতে চলে আসব।”
একথা বলতে না বলতেই টেবিল কেঁপে উঠল। আর দরজা দিয়ে মোমবাতি হাতে নিয়ে ইঁদুর ধরতে লোক ঢুকল ঘরে। তারা কোনোক্রমে গর্তে ঢুকে নিজেদের বাঁচাতে পেরেছিল।
“না!” বলল মেঠো ইঁদুর, “এর চেয়ে আমার মাঠে বাস ঢের ভালো। সেখানে এমন মিষ্টি খাবার নেই ঠিকই, তবে এমন ভয়ের কোনো কারণও নেই।”
সাগর, নদী ও ছোটনদী
একজন লোক আরেকজনের সঙ্গে তর্ক করে বলল, সে প্রচুর পান করতে পারে।
সে বলল, “আমি পুরো সাগরটাই পান করে ফেলতে পারি।”
“কিছুতেই তুমি তা পার না।”
“নিশ্চয়ই পারি। এসো, বাজি ধরা যাক। এক হাজার রুবল বাজিতে আমি পুরো সাগর পান করতে পারি।”
পরদিন সকালে সবাই মিলে সেই লোকটির কাছে এসে হাজির।
“কী হে! যাও সমুদ্র পান কর অথবা এক হাজার রুবল দাও।”
সে বলল, “আমি বলেছিলাম সমুদ্র পান করব, কিন্তু নদীকেও পান করব এমন কথা তো আমি বলিনি। নদী ও ছোট নদীতে বাঁধ দাও, যাতে এর জল সমুদ্রে না পড়ে। তবেই আমি সমুদ্রকে পান করব।”
ঈগল ও শেয়াল
এক ঈগল এক শেয়ালছানা ধরে নিয়ে চলল। শেয়াল মা গভীর দুঃখে অনেক কাকুতিমিনতি করল।
কিন্তু ঈগল তা শুনল না। সে ভাবল, “অনেক উঁচুতে পাইন গাছে আমার বাসা। শেয়াল আমার কী আর ক্ষতি করতে পারবে? সে আমার নাগালই পাবে না।”
এই ভেবে ছানাটিকে নিয়ে চলল। শেয়াল মা দৌড়ে গেল মাঠে, লোকের কাছ থেকে আগুন নিয়ে পাইন গাছে বয়ে আনল। সে সবে গাছে আগুন লাগাতে যাচ্ছে। এমন সময় ঈগল ক্ষমা চেয়ে তাকে তার বাচ্চা ফেরত দিল।
বেড়াল ও শেয়াল
এক বেড়াল শেয়ালকে বলছিল কীভাবে কুকুরদের কাছ থেকে আত্মরক্ষা করা যায়।
“আমি কুকুরদের মোটেই ভয় পাই না।” বলল বেড়াল, “কেননা আমার একটা কৌশল জানা আছে।”
আর শেয়াল বলল, “মাত্র একটা কৌশলের সাহায্যে কীভাবে তুমি কুকুরদের হাত এড়াও? আমার জানা আছে এমন সাতাত্তরটি কৌশল।”
যখন তারা কথাবার্তা বলছিল সেই সময় একদল শিকারি তাদের কুকুর নিয়ে সেই পথে যাচ্ছিল। বেড়াল তার জানা একটিমাত্র উপায়ই ব্যবহার করল। সে একটি গাছে চড়ে বসল আর কুকুরেরা তার নাগাল পেল না। আর শেয়াল তার জানা সবগুলো উপায়কেই কাজে লাগাতে চেষ্টা করল কিন্তু কোনোটাই তার কাজে এল না এবং কুকুরেরা তাকে ধরে ফেলল।
বাঁদর ও শেয়াল
একদিন জন্তুরা সকলে মিলে বাঁদরকে তাদের নেতা নির্বাচন করল।
শেয়াল বাঁদরের কাছে এসে বলল, “তুমি এখন আমাদের প্রধান, আমি তোমার সেবা করতে চাই। এই বনের মধ্যে এক জায়গায় আমি গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছি, চল আমি তোমাকে দেখাব।”
বাঁদর খুব খুশি হয়ে শেয়ালের সঙ্গে চলল। শেয়াল বাঁদরকে এক ফাঁদের কাছে এনে বলল, “এই সেই জায়গা। তুলে নাও সব, তোমার আগে আমি কিছু নিতে চাই না।”
বাঁদর যেই না ঐ ফাঁদে তার থাবা ঢুকিয়েছে অমনি সে ধরা পড়ে গেল। তখন শেয়াল ছুটে অন্য জন্তুদের কাছে গেল এবং বাঁদরকে দেখিয়ে বলল, “দেখো তোমরা, এমন নেতা নির্বাচন করেছ যে কিনা ফাঁদে ধরা পড়ে এমনই তার বুদ্ধি।”
সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। সকল এন্ড্রয়েড ফোনের একটি পাওয়ার বাটন থাকে,যার মাধ্যমে স্ক্রীন অন/অফ করা হয়।কিন্তু এই বাটনের অধিক ব্যবহারের ফলে বাটনটি নষ্ট হয়ে যায়।কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুর ফোনের পাওয়ার বাটন নষ্ট হয়ে গেছে।তখন বন্ধুটি আমার কাছে ফোন নিয়ে এসে বলল কি করা যায়?এর সমাধান কি?? আমিও তো চিন্তায় পরে গেলাম।তাই সন্ধানে বের হলাম।গুগলে সার্চ দিতে থাকলাম।
এমন কিছুই কি নেই যার মাধ্যমে পাওয়ার বাটন এর ব্যবহার কমানো যায়?অনেক খোজাখোজির পর একটা এপ পেলাম,এপ টা অনেক ধারুন।এই এপের মাধ্যমে পাওয়ার বাটনের ব্যবহার না করে স্ক্রীন আনলক করা যায়।
এপটার নাম:ভলিউম বাটন আনলকার সাইজ মাত্র ২.৫ এম্বি এই এপের মাধ্যমে ভলিউম বাটন দিয়ে স্ক্রীন আনলক করা যায়।আপনাদের অবস্থা যেন আমার বন্ধুর মতন না হয় তাই আপনাদের জন্য এপ টি নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম।এপটি নিচের দেয়া লিংকে থেকে ডাউনলোড করে ফেলুন,আর পাওয়ার বাটন নষ্ট হওয়া থেকে বাচান!এপটি Open করে নিচের ছবির মত সেটিং করে নিন।
আমাদের দেশের মানুষের বিনোদনের একটি বিরাট মাধ্যম হলো টেলিভিশন দেখা। আগেকার দিনে টেলিভিশনের সংখ্যা ছিলো খুবই কম। এমন ছিলো যে একটি পুরো এলাকাজুড়ে একটি মাত্র টেলিভিশন। তাও আবার অনেক মানুষের ভিড়ে, ভালো করে দেখা যায় না। চ্যানেল ও ছিলো হাতে গোনা কয়েকটা । কিন্তু এখন সবার বাড়ি টেলিভিশন এবং প্রচুর চ্যানেল কিন্তু এখন সবাই নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাকে টিভি দেখার মত সময় কারো নেই। সারাদিন থাকতে হয় বাইরে এবং দেশের খবর রাখতে হলে নির্ভর করতে হয় নিউজ চ্যানেল এর উপরে।
দেশি টিভি (বাংলাদেশি আইপি )
কিন্তু আবার দেখা গেলো কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলা আপনি টিভিতে দেখতে চাচ্ছেন কিন্তু আপনি বাইরে। তখন কি করবেন? সমস্যা নেই আপনি আপনারস্মার্ট ফোন কিংবা ট্যাবে খেলা দেখতে পারবেন । এজন্য আপনাকে Deshi Tv (Bangladeshi IPTV) অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিতে হবে। আপনি যদি থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকেন তবে কোন রকম বাফারিং ছাড়াই উপভোগ করতে পারবেন ভিডিও স্ট্রিমিং। যার ফলে আপনি কাজের জন্য বাইরে থাকলেও আপনার প্রিয় অনুষ্ঠানটি মিস করবেন না । এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে দেশের প্রায় সব চ্যানেল; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এনটিভি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি , এটিএন নিউজ, আর বিটিভি সহ আরও বেশ কিছু চ্যানেল. প্রতিমিনিটর প্রায় ১ মেগাবাইট খরচ হবে।
জাগোবিডিঃ
জাগোবিডি বাংলাদেশের বৃহত্তম একটি টিলিভিশন রিসোর্স সেন্টার। এই অ্যাপসের মাধ্যমে 2G,3G, ওয়াইফাই ও ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্কে টিভি দেখা যাবে।
অ্যাপসটির বৈশিষ্টঃ
বাংলা টিভি চ্যানেল
বাংলা রেডিও
বাংলা সংবাদ পত্র
বাংলা ইসলামী রেডিও
বিশেষ অনুষ্ঠান
"অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ প্লেয়ার " কোন প্রয়োজন নেই
অত্যন্ত শক্তিশালী স্ট্রিমিং প্লেয়ার
কোন সাইন আপ করার প্রয়োজন নেই
স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন চ্যানেল আপডেট হয়
ফিলমন লাইভ টিভিঃ
ফিলমন লাইভ টিভি একটি জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড টিভি এপস। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন আপনার কাছে ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে আপনি এই অ্যাপসের মাধ্যমে বিনামুল্যে লাইভ টিভি দেখতে পারবেন । এই অ্যাপসের মাধ্যমে আপনি আপনার স্থানীয় টিভি চ্যানেল বা মার্কিন, ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা এবং এশিয়া থেকে চ্যানেল নির্বাচন করে লাইভ খেলাধুলা, খবর , লাইফস্টাইল, সিনেমা, কেনাকাটা, কিডস, সহ অনেক কিছু উপভোগ করতে পারবেন।
এয়ারটেল মোবাইল টিভিঃ
এটি একটি এয়ারটেল ডাটা সংযোগ ভিত্তিক মোবাইল টিভি পরিষেবা যা আপনাকে বিনামুল্যে লাইভ টিভি দেখার সুবিধা প্রদান করে। এই মোবাইল টিভি অ্যাপ্লিকেশনে সব ধরনের বাংলা এবং ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল দেখা যাবে। ব্যাবহারকারী প্রথমে এয়ারটেল নেটওয়ার্ক থেকে অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার পর ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে ব্যাবহার করতে পারেন। আপনি যে চ্যানেল সমুহ উপভোগ করতে পারবেন-
পর্যটন শিল্প এখন রমরমা। দেশে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-মোটেল। বাড়ছে দক্ষ কর্মীর চাহিদা। দেশের বাইরেও আছে লোভনীয় চাকরির হাতছানি। তাই এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হতে পারেন হোটেল ম্যানেজমেন্টে। পর্যটন বিষয়ে পড়তে চাইলে এইচএসসি পাস এবং ভালো ইংরেজি বলায় পটু হতে হবে। সৌন্দর্যের চেয়ে এখানে ভালো কাজ জানাটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারকা হোটেলগুলোর কিছু কিছু বিভাগে শারীরিক গঠনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হোটেল ও ট্যুরিজম পেশার দায়িত্ব
এখনকার পাঁচতারা হোটেল মানেই যেন একটা ছোটখাটো শহর। গোটা ছয় রেস্তোরাঁ ২৪ ঘণ্টা খোলা, কফিশপ, কনফেকশনারি, সুইমিং পুল, ডিস্কো, কনফারেন্স রুম, বুটিক, টেনিস কোট কিছুই বাদ নেই। তাই এসব হোটেল চালাতে গেলে প্রয়োজন পেশাদার কর্মীর। কারণ একটি আধুনিক পাঁচতারা হোটেলে বেশকিছু বিভাগ থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, হাউস কিপিং, পাবলিক রিলেশন, মার্কেটিং, ফিনানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট, হোটেলের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্টসহ সব জায়গায় হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাস করা ছাত্র-ছাত্রীদের কদর।
পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ
সর্ব প্রথম ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পাঠদান শুরু হওয়ার পর অনেক সরকারি ও বেসরকারিসহ একাধিক ট্রেনিং সেন্টারে এ বিষয়ে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।চারবছর মেয়াদি অনার্স কোর্সের জন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইবাইস ইউনিভার্সিটি ও ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিসহ গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ানো হয়। এছাড়া ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, মহাখালী। বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইন্সস্টিটিউট, গ্রিনরোড, ঢাকা। পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট, দিলকুশা, মতিঝিল। হোটেল রাজমনি ঈশা খাঁ, কাকরাইলসহ আরও অনেক জায়গায় ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
যেসব বিষয়ের চাহিদা বেশি
হোটেল ম্যানেজমেন্ট শুধু একটি বিষয় নয়। এর মধ্যে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন_ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম, হাউসকিপিং, বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন, ফ্রন্ট অফিস সেক্রেটারিয়াল অপারেশন ইত্যাদি। এসব বিষয়ে ছয় মাসের শর্ট কোর্স এবং এক বছর, দুই বছর কিংবা তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স রয়েছে। আর স্নাতক কোর্স তো আছেই। চাহিদামতো যেকোনো একটি কোর্স করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি কোর্সগুলো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি গ্রহণযোগ্য। চাকরির ক্ষেত্রে চাহিদা বেশি এমন ছয়টি বিষয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো
ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস : খাবার তৈরি, টেবিল সাজানো, খাদ্য ও পানীয় পরিবেশন, পানীয় ও খাদ্যতালিকা হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশন ইত্যাদি বিষয় কোর্সের অন্তর্ভুক্ত।
ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন : এই কোর্সের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো বাংলাদেশি, চায়নিজ, ইউরোপিয়ান, ইন্ডিয়ান খাবার তৈরি প্রণালী, ডেকোরেশন, হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশন।
ফ্রন্ট অফিস সেক্রেটারিয়াল অপারেশন : অভ্যর্থনা টেলিফোন ম্যানার্স, চেক ইন, চেক আউট, বিল সংরক্ষণ, হিসাব সংরক্ষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ ও কম্পিউটারসংক্রান্ত বিষয়গুলো শিখবেন এ কোর্সে।
সার্টিফিকেট কোর্স ইন হাউসকিপিং অ্যান্ড লন্ড্রি : কক্ষসজ্জা, বেড তৈরি, ক্লিনিং, লন্ড্রি সার্ভিস, হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশন, ফাস্ট এইড ইত্যাদি এ কোর্সের অন্তর্ভুক্ত।
বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন : এই কোর্সে শিখবেন কেক, পেস্ট্রি, ব্রেড, কুকিজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট আইটেম প্রস্তুত, ডেকোরেশন, হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশনের মতো বিষয়গুলো।
ট্রাভেল এজেন্সি অ্যান্ড ট্যুর অপারেশন : এয়ারলাইন্স, ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য এখানে শিখবেন ট্যুর অপারেশন্স অ্যান্ড ট্যুর গাইডিং, ট্রাভেল সার্ভিস, ট্রাভেল ও কালচারাল জিওগ্রাফি বিষয়গুলো। ভর্তির যোগ্যতা
এ বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে এইচএসসি পাস করতে হবে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে গ ইউনিটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কারণ এখানে এটি ব্যবসা অনুষদের বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য এইচএসসিতে যে কোনো বিভাগ থাকলে চলবে।
পড়াশোনার খরচ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার খরচ একেবারেই কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মুজিব উদ্দিন আহমেদ জানান, এখানে চার বছরে খরচ পড়বে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ পড়বে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকার মতো। এছাড়া ২ বছর অথবা ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য প্রতিষ্ঠানভেদে আপনাকে গুনতে হবে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।
বিদেশে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পোল্যান্ড, সাইপ্রাসসহ বিভিন্ন দেশে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমে পড়াশোনাসহ গ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ রয়েছে। পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভর করে এসব দেশে গড়ে উঠেছে প্রচুর হোটেল রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, ট্যুর কোম্পানি ও ট্রাভেল এজেন্সি। এসব দেশে এখনও দক্ষ পেশাজীবীর প্রচুর চাহিদা। এখনও পড়াশোনা এবং প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল শিক্ষার পাশাপাশি ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমে কাজ করার অফুরন্ত সুযোগ। তাই এসব দেশে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী যাচ্ছে। আপনিও চাইলে প্রয়োজনীও শর্ত পূরণ করে যেতে পারেন এসব দেশে। আমাদের স্বপ্নের এ বাংলাদেশে ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্টে ক্যারিয়ার দিন দিন বাড়ছে। আমাদের এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে আপনিও পারেন অবদান রাখতে।
বিশেষজ্ঞের অভিমত
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুজিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি নতুন হলেও সমাজে ও কর্মক্ষেত্রে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এর প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এখানে যেমন রয়েছে পর্যাপ্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা।
বেতন কেমন
প্রতিষ্ঠান ও কাজভেদে বেতন কাঠামো ভিন্ন হয়। ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্নকারীরা কাজ শুরু করতে হবে শিক্ষানবিশ হিসেবে। এ সময় তারকা হোটেলগুলো থেকে যাতায়াত ভাড়া বাবদ কিছু টাকা দেওয়া হয়। তবে সব হোটেলে একই রকম নিয়ম নেই। শিক্ষানবিশ শেষে শুরুতে বেতন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞদের বেতন ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হয়। এ ছাড়া কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে লভ্যাংশের একটা অংশও কর্মচারীদের দেওয়া হয়।